খাদ্য ও পুষ্টি (Child Nutrition),  খাদ্যাভ্যাস

বর্ষাকালীন শিশু খাদ্যতালিকা

ঋতু পরিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী এখন বর্ষাকাল জুন থেকে সেপ্টেম্বরে এই চার মাস  ভারতে বর্ষাকাল  হিসেবে ধরা হয়। Season change বা ঋতু পরিবর্তনের  এর সময় আমরা সবাই  কিছু শারীরিক সমস্যার সাথে  সম্মুখীন হয়, আবার  যেহেতু 7-8বছরে আগে বাচ্চাদের সম্পূর্ন Immunity System তৈরী হয় না ওদের সমস্যা একটু  বেশি লক্ষ্য করা যায়, এর আগেই শিশুর ইমিউনিটি কিভাবে উন্নত করা সম্ভব তাই নিয়ে কথা বলেছিলাম, আজ আলোচনা করবো,বর্ষাকালে কি ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ, এবং খাদ্যতালিকায় অল্প কিছু  পরিবর্তন সম্পর্কে জানবো যা শিশু কে সুস্হ রাখতে সাহায্য করবে।

বর্ষাকালীন কিছু সাধারণ সমস্যা

গ্রীষ্মের পর বর্ষার বৃষ্টি আমাদের স্বস্তি তো অবশ্যই দেয়, তার সাথে বেশ কিছু রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা যায়।প্রথমে আমরা একটু জেনেনি বর্ষাকালে কি কি সমস্যা বা রোগের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।

 

 

 

 

1.Water Born Diseases / জল বাহিত

রোগসমূহ

2.Food Born Diseases/ খাদ্যবাহিত রোগসমূহ

3.Insect Born/ পতঙ্গ বাহিত

4.Viral Infection

ডায়রিয়া, টাইফয়েড,ডিসেন্ট্রি, জন্ডিস

হেপাটাইটিস- A

Dirrhoea, stomach Infection

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া,

Chikungunya

জ্বর, cold & cough, Flu

উপসর্গ

হজমের গন্ডগোল

পেট ফাঁপা, খিদে কমে যাওয়া, গ্যাস, পেট ব্যাথা ইত্যাদি

উপসর্গ

Affects of liver,পাতলা পায়খানা, পেট ব্যাথা।

উপসর্গ

জ্বর, Muscle pain , Nausea .

উপসর্গ

গলা ব্যাথা, Runny nose, মাথা ব্যাথা, congestion, দুর্বলতা, Muscle pain, vomiting

খাদ্য গ্রহনে অনীহা।

কারণ

সাধারণত দূষিত জল, বিভিন্ন মাইক্রোবস, এর কারণে হয়।

কারণ

দূষিত/ পচা খাবার, এবং ব্যাকটেরিয়া/ ভাইরাল ইনফেকশন,অপরিষ্কার জল বা খাদ্য গ্রহনের ফলে হয়।

কারণ

 ডেঙ্গু, ডেঙ্গু ভাইরাস এর কারণে হলেও, মশা বাহক হিসেবে কাজ করে,বদ্ধ জলে জন্মানো স্ত্রী anopheles মশা ম্যালেরিয়া রোগের বাহক।

কারণ

শ্বাসনালী তে সক্রমণ  (Viral infection).

উপরে লেখা যে কোনো সমস্যা হলে অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন,এই পেনডেমিক পরিস্তিতিতে সবচেয়ে জরুরী বিষয় সচেতনতা..

কোন ধরণের খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ

  • ভিটামিন মিনারেলস যুক্ত হলেও এই সময় সমস্ত পাতা জাতীয় সবজি ও কাঁচা সবজি যেমন শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি বাচ্চাদের খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন।
  • রিফাইনড শর্করা যেমন ময়দা, কর্ণফ্লাওয়ার জাতীয় খাবার বাচ্চাদের দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • গরুর দুধ বা দুধের তৈরী খাবার চীজ, পনির খোয়া ক্ষীর বাচ্চাকে দেওয়ার আগে সচেতন হন। বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • সামুদ্রিক মাছ বর্ষাকালে বারণ করার প্রধান কারণ, জল দূষণ, এবং এই সময় মাছেদের ব্রিডিং season, এবং জেলে রা আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে প্রতিদিন মাছ ধরতে সমুদ্রে যান না,তাই টাটকা মাছ পাওয়া গেলে তা গ্রহন করা যেতে পারে।
  • ডুবো তেলে ভাজা বা বাইরের ভাজা খাবার বন্ধ করুন। মনে রাখবেন পোড়া তেল সবসময় শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।
  • জল জাতীয় ফল( তরমুজ, শশা)এগুলো এই সময় বাদ দিন।
  • স্প্রাউটস(অঙ্কুরিত ছোলা/মুগ) পুষ্টি সমৃদ্ধ হলেও যেকোনো ধরণেও ফাঙ্গাল ইনফেকশন এর ভয় থাকে, তাই কাঁচা খাওয়া এই সময়ে বন্ধ রাখা উচিৎ। তবে সেদ্ধ করে দেওয়া যেতেই পারে, সেদ্ধ স্প্রাউটস এ ওপরে খোসা তে অবস্থিত ফাইটেট ভেঙে যাওয়ায় হজমের সুবিধাই করে।
  • অতিরিক্ত লবন যুক্ত খাবার শরীরে জলের আধিক্য ঘটায়, শুধু বর্ষাকাল নয় সবসময় খাবারে লবণ পরিমিত পরিমানে রাখা উচিৎ।
  • আমরা জানি ফার্মেন্টেন্ড খাবার(ইডলি দোসা) stomach এর জন্য স্বাস্থ্যকর, তবে বর্ষাকালে দীর্ঘ সময় আগে তৈরী খাবার গ্রহণের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। সঠিক ভাবে রান্না করলে যেকোনো ধরণের মাইক্রোবস এর সক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

যেসমস্ত খাবার গ্রহন করা উচিত

 

  • মরশুমি ফল সবজি:

দৈনন্দিন খাদ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময় যে বিষয় মাথায় রাখা উচিৎ, সহজলভ্য  এবং মরশুমি  সবজি ও ফল  যেমন তেতো সবজি যেমন নিম, করলা, মেথি( ফোড়ন হিসেবে)হলুদ, এছাড়াও লাউ, বিনস, কুমড়ো, পটল, সজনে।

মরশুমি ফল জাম, নাশপাতি, পেয়ারা, পেঁপে, আমলকি, কলা ও অল্প পরিমানে আম ও রাখা যেতে পারে।

  • Herbs:

তুলসীপাতা, তুলসী বীজ, আদা,জিরা গোলমরিচ, লবঙ্গ, রসুন, জয়েত্রী, পানমৌরী ইত্যাদি মশলা রান্নায় বা গার্নেসিং হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • স্বাস্থকর ফ্যাট:

হালকা তেল অলিভ অয়েল, রাইস বার্ন অয়েল, Peanut Butter, ভেজানো আমন্ড, আখরোট, সর্ষের তেল(কম) পরিমানে ব্যবহার করা যেতে পারে

  • Low Glycemic শর্করা:

Oats, গমের ডালিয়া, ভুট্টা, শ্যামাচাল,ভাত এই ধরনের শর্করা রাখা যেতে পারে।

  • প্রোটিন:

গুড কোয়ালিটির প্রোটিন অবশ্যই প্রতিদিন কার মেনু তে রাখতেই হবে. ডাল, বাদাম, ডিম, মাছ, গরম দুধ(কম পরিমানে)।

  • দুগ্দ্ধজাত উপাদান:

টক দই পেটের জন্য ভীষণ উপকারী সপ্তাহে 2-3দিন অল্প পরিমান এ রাখা যাবে।

  • পানীয়:

বর্ষাকালে সাধারণত জল গ্রহণের ইচ্ছা কম থাকে, কিন্তু সঠিক হজমের জন্য ও শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপ এর জন্য পরিমান মতো জল গ্রহণ করতেই হবে। এছাড়াও ডাবের জল, স্যুপ, ORSL রাখা যাবে।

Tips

  • রান্না ও খাবার গ্রহণের সময় অবশ্যই পরিষ্কার পরিছন্নতা বজায় করে চলুন।
  • বাড়ীর আশেপাশে পরিষ্কার রাখুন
  • মশার উপদ্রব এড়ানোর জন্য অবশ্যই মশারি ব্যাবহার করুন।

শুধুই বাচ্চার জন্য নয়, আপনারাও এই বিষয় গুলো মেনে চলুন।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

লিখলেন: 

Dt. Pinky Chatterjee

Consultant Dietitian (Paediatric)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *