Recipe for Kids,  খাদ্য ও পুষ্টি (Child Nutrition)

লকডাউনে বাচ্চার জন্য রান্না – 1

দুই  থেকে দশ বছরের বাচ্চাদের প্রধান সমস্যা হলো তাদের মুড। তাদের ভালো না লাগলে, কিছুতেই সেই জিনিস করানো যাবে না! সেটা আবার বেশি প্রযোজ্য হয়ে যায় খাওয়ার ক্ষেত্রে। আবার এখন এই lockdown এর বাজারে না আছে স্কুল, না আছে নাচ বা ক্যারাটে, না আছে মাঠে ছোটাছুটি করতে পাওয়া। তার মধ্যে আবার রেস্তোরাঁ গুলোও বন্ধ! আবার ‘ঠ্যালা কাকুর’ এগ-রোল বা মোমো কোনোটাই পাওয়া যাচ্ছে না!!! ‘ভালো লাগে না’ এই বুলি যেন বাচ্ছাদের মুখে লেগেই রয়েছে। তার মধ্যে আমাদের মানে মা-বাবা দের এই lockdown এর জন্য resource ও খুব কম। তাই আমরা পড়ি আতান্তরে। কিছুতেই বুঝতে পারি না কি করে একটু দিলখুস করে দেওয়া যায় বা চমকে দেওয়া যায়।

       চলুন না বাড়িতে থাকা আমাদের জিনিসপত্র দিয়েই ওই পুচকেগুলোর মুখবদলের জন্য সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কিছু খাবার বানিয়ে ফেলি। ভালোই লাগবে try করে দেখুন।

রাজমা (Kidney beans) রোল

 উপকরণ-

রাজমা (৬-৮ ঘন্টা ভিজিয়ে নুন দিয়ে সেদ্ধ করা) -1/2 কাপ

(কুকারে low flame এ 4/5 টা সিটি দিলেই হবে)

সেদ্ধ আলু         -২ মাঝারি

পেঁয়াজ          -1 তা মাঝারি

আদা ও রসুন বাটা-1/2 চা চামচ

ধনে গুঁড়ো- 1/2 চা চামচ

জিরা গুঁড়ো- 1 চা চামচ

গরম মসলা- 1/2 চা চামচ

নুন- স্বাদ অনুসারে

চিনি -1 চা চামচ

লাল লংকা গুঁড়া- 1/2 চা চামচ (optional)

কাঁচা লংকা -2 টি কুচানো

ধনে পাতা – প্রয়োজন মতো

কর্নফ্লাওয়ার -2 টেবিল চামচ

প্রনালী-

প্যান-এ 2 টেবিল চামচ মতো সাদা তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লাল করে ভাজতে হবে।

এরপর এতে আদা রসুন পেস্ট দিয়ে নাড়িয়ে একে একে ধনের গুঁড়ো, জিরা গুঁড়ো, লাল লংকা গুঁড়ো, নুন দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে।

এতে আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা রাজমা ও আলু ভালো করে মেখে দিয়ে দিতে হবে।

ভালো করে নাড়িয়ে এতে চিনি, কাঁচা লংকা আর ধনেপাতা দিয়ে নাড়তে হবে শক্ত না হওয়া পর্যন্ত। একটু ঠান্ডা হয়ে গেলে এরপর এতে কর্নফ্লাওয়ার ও গরম মসলা দিয়ে ভালো করে মাখতে হবে এবং চ্যাপ্টা টিক্কির মতো নিজেদের ইচ্ছামতো আকারে গড়ে নিতে হবে।

অন্য একটি প্যান গরম করে তাতে সামান্য সাদা তেল দিয়ে টিক্কি গুলো shallow fry করে নিতে হবে। আপনার চাইলে একটু কর্নফ্লাওয়ার এ গড়িয়ে নিয়ে ডিপ ফ্রাইও করতে পারেন।

  এরপর একটি হাতে গড়া রুটি নিয়ে তার মাঝে টিক্কি রেখে উপর থেকে একটু মেয়োনেজ দিয়ে দিতে হবে। তার উপর একটু পেঁয়াজ কুচি, টমেটো কুচি দিয়ে রুটি মুড়ে (wrap) করে দিতে হবে। উপর থেকে একটু কাসুন্দি ও টমেটো sauce দিয়ে পরিবেশন করলেই রেডি আমাদের রাজমা রোল।

(বাড়িতে কর্নফ্লাওয়ার না থাকলে ময়দা দিতে পারেন। আর যদি মেয়োনেজ না থাকে তো একটু টক দই নিয়ে মসলিন এর কাপড়ে কিছুক্ষন ঝুলিয়ে রেখে দেবেন। এরপর দই এর জল বেরিয়ে গেলে তাতে প্রয়োজনমতো নুন, চিনি ও ভাজা জিরা মসলা দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে ফ্রিজ এ রেখে তা ব্যবহার করতে পারেন।)

আরো অনেক এরকম ছোটখাটো কিন্তু স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু রান্না আসবে। পড়তে থাকুন আর বাড়িতে বানান।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মতামত লিখুন comment-এ।

2 Comments

  • সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়

    বয়স্করা তো শিশুর সমান– এমনই তো লোকে বলে

    তা ওই রাজমা রোল কি বয়স্কদের খাওয়া যাবে?

    • K.Bagchi

      অবশ্যই খাওয়া যাবে। তবে এই জন্য নয় যে বয়স্করা শিশুদের সমান। বরং উল্টোটাই ঠিক। কিন্তু এই খাবার টা খেতে বিশেষ বাধা নেই, যদি না ডাক্তারবাবুর কোনো অন্য বিশেষ বারণ থাকে।
      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *